
কঠোর তদারকি এবং নিয়মিত হাজিরা বেতন-ভাতা না পেয়ে দুঃখ কষ্টে জীবন যাপন করছে চরফ্যাশন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার সিএইচসিপি’রা।
ভোলার প্রত্যান্ত গ্রাম পর্যায়ে মা ও শিশুসহ সব বয়সী রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দিচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক আর দীর্ঘ নয় মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় তাদের দুঃখ কষ্টের আর শেষ নেই।
। গ্রামের অসহায় দারিদ্র মানুষ এখান থেকে প্রায় ২৬/২৭ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে রোগীদেরকে দেওয়া হয়। সল্প আয়ের মানুষ এই সেবা পেয়ে খুবই খুশি। কিন্তু দীর্ঘ ৯মাস তাদের এই চিকিৎসকদের দুঃখ এবং দুর্দশার কথা শুনে সেবাগ্রহীতার দ্রুত বেতন-ভাতা চালুর দাবী করছেন।
এওয়াজপুর কমিউনিটি হেলথ কেয়ার সিএইচসিপি নাদিরা খানম,আসলামপুরের নাছিমা বেগম বলেন, যাতায়াত ভাড়া দিয়ে নিয়মিত ক্লিনিকে গিয়ে রোগীদেরকে সেবা দিচ্ছি। বেতন না পেয়ে দুঃখ কষ্টে জীবন-যাপন কাটাতে হচ্ছে আমাদের। সরকারের কাছে দ্রুত বেতন- ভাতা চালু করার দাবী করছি।
আসলামপুর গ্রামের তামান্না বলেন, আমরা একটু অসুখ হলে বাড়ির পাশে ক্লিনিকে যাই, আপা দেখে বেশ কিছু ওষুধ দিয়ে দেয়, কোন টাকা লাগে না। আমাদের ব্যাপক উপকার হয়। বেতন না দেয়ার কারণে যেকোন মুহুত্বে তারা ক্লিনিকে আসা বন্ধ করে দিলে আমরা চিকিৎসার আভাবে দুখে দুখে মরতে হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ও কমিউনিটি ক্লিনিক তদারকি কর্মকর্তা ডাঃ শোভন বসাক বলেন, নয় মাস ধরে বেতন বন্ধ, বেতন-ভাতার বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে আশা করি শীঘ্রই পাবে। যারা বেতনের অযুহতে নিয়মিত উপস্থিত থাকবে না বা কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা দিবে না, বেতন ছাড়লে সেখান থেকে বেতন কর্তন করা হবে। সুপারভিশনে ঢাকার একটি টিমও কাজ করছে। এ উপজেলা ৬৬টি হেলথ কেয়ার সিএইচসিপিরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয় বলছে, গত বছরের জুলাই থেকে সিএইচসিপিদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। কেবল ভোলা-চরফ্যাশন নয়, সারা দেশে ১৮ হাজার হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের বেতনও বন্ধ রয়েছে। হতাশার কিছুই নেই পাবে।