০৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টাংগুয়ার হাওর বিষ দিয়ে মাছ নিধনের মামলার আসামী যুবলীগ নেতাকে বাঁচাতে তৎপর আ,লীগ নেতা

টাঙ্গুয়ার হাওরের চটানিয়া বিলে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের মামলার আসামী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আবুল কালাম। তাকে বাঁচাতে তৎপর হয়ে উঠেছে উপজেলার আ,লীগের এক যুগ্ম সম্পাদক।

গত ৮ মার্চ বিষপ্রয়োগে ২০০ শতাধিক হাঁস মারা যাওয়ায় ঘটনায় খামারী কাজল মিয়া তাহিরপুর থানায় টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও যুবলীগ নেতা আবুল কালামসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ্য করে সোমবার (১০ মার্চ) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর পরেই নড়েচড়ে বসেছে অভিযুক্ত আবুল কালাম ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক,দুদক এর মামলার আসামী আমিনুল ইসলাম।

 

 

 

স্থানীয় এলাকাবাসী ও তাহিরপুর থানা পুলিশ সুত্রে জানাগেছে,গত ৮ মার্চ টাঙ্গুয়ার হাওরের বাগমারা গুপ,চটানিয়া বিল,গইন্যাকুড়ি বিলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদে থাকা যুবলীগ নেতা আবুল কালামের নেতৃত্বে স্থানীয় জেলেরা।
পর ঐসব বিলে রামসিংহপুরের খামারি কাজল মিয়া সহ অনেকের হাঁস খাবার খেতে যায়। কিন্তু চটানিয়া বিলে গিয়ে খাবার খেয়ে খামারীর দুই শতাধিক হাঁস মারা যায়। এছাড়াও অন্যান্য বিলেও হাসঁ মারা যায় খামারীদের। এছাড়াও এর পুর্বে বাগমারা গুপ ও গইন্যাকুড়ি এবং মাছের অভয়াশ্রম রৌয়া বিলে বিষপ্রয়োগ করে মৎস্য ও পাখি শিকারের ঘটনা ঘটেছে যুবলীগ নেতা কামালের নেতৃত্বে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাংগুয়ার হাওর পাড়ের একাধিক বাসিন্দা জানান,আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা হওয়ায় আবুল কালাম টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদটি ভাগিয়ে নিয়েই হাওরের পাখি শিকার,মাছ ও গাছ কাটার সাথে জড়িয়ে পড়ে। পাখি শিকারী ও জেলেদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে হাওর মাছ ও পাখি শিকার করার সুযোগ করে দেয়। না দিলেই মাছ ধরার বিভিন্ন জাল জব্দ করে,পরে টাকা দিলেই ছেড়ে দেয়। তার দাপটে হাওর পাড়ের বাসিন্দারা ভয়ে থাকে। কিছু বললেই ইউএনও সাব ও পুলিয়ের ভয় দেখাত। ধরিয়ে দিয়ে মামলা দিবে।

 

 

 

মামলার বাদী খামারী কাজল মিয়া জানান,আমি ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছি অভিযুক্তদের শাস্তি চাই। যাতে এমন কাজ আর কেউ করতে সাহস কেউ না পায়।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম জানিয়েছেন,বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগে টাঙ্গুয়ার হাওরের গইন্যাকুড়ি বিলের পারমিট বাতিল করা হয়েছে। বিষ প্রয়োগের সাথে টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম জড়িত কি না তা পুলিশ যাচাই বাছাই করবে। তদন্তে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পুলিশ।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান,এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

Tag :

ভোলার চরফ্যাশন ডাক্তার ও মেডিকেল স্টুডেন্টদের ফ্রি ব্লাডগ্রুপিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

x

টাংগুয়ার হাওর বিষ দিয়ে মাছ নিধনের মামলার আসামী যুবলীগ নেতাকে বাঁচাতে তৎপর আ,লীগ নেতা

প্রকাশ : ০৩:৫৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫

টাঙ্গুয়ার হাওরের চটানিয়া বিলে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের মামলার আসামী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আবুল কালাম। তাকে বাঁচাতে তৎপর হয়ে উঠেছে উপজেলার আ,লীগের এক যুগ্ম সম্পাদক।

গত ৮ মার্চ বিষপ্রয়োগে ২০০ শতাধিক হাঁস মারা যাওয়ায় ঘটনায় খামারী কাজল মিয়া তাহিরপুর থানায় টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও যুবলীগ নেতা আবুল কালামসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ্য করে সোমবার (১০ মার্চ) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর পরেই নড়েচড়ে বসেছে অভিযুক্ত আবুল কালাম ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক,দুদক এর মামলার আসামী আমিনুল ইসলাম।

 

 

 

স্থানীয় এলাকাবাসী ও তাহিরপুর থানা পুলিশ সুত্রে জানাগেছে,গত ৮ মার্চ টাঙ্গুয়ার হাওরের বাগমারা গুপ,চটানিয়া বিল,গইন্যাকুড়ি বিলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদে থাকা যুবলীগ নেতা আবুল কালামের নেতৃত্বে স্থানীয় জেলেরা।
পর ঐসব বিলে রামসিংহপুরের খামারি কাজল মিয়া সহ অনেকের হাঁস খাবার খেতে যায়। কিন্তু চটানিয়া বিলে গিয়ে খাবার খেয়ে খামারীর দুই শতাধিক হাঁস মারা যায়। এছাড়াও অন্যান্য বিলেও হাসঁ মারা যায় খামারীদের। এছাড়াও এর পুর্বে বাগমারা গুপ ও গইন্যাকুড়ি এবং মাছের অভয়াশ্রম রৌয়া বিলে বিষপ্রয়োগ করে মৎস্য ও পাখি শিকারের ঘটনা ঘটেছে যুবলীগ নেতা কামালের নেতৃত্বে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাংগুয়ার হাওর পাড়ের একাধিক বাসিন্দা জানান,আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা হওয়ায় আবুল কালাম টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদটি ভাগিয়ে নিয়েই হাওরের পাখি শিকার,মাছ ও গাছ কাটার সাথে জড়িয়ে পড়ে। পাখি শিকারী ও জেলেদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে হাওর মাছ ও পাখি শিকার করার সুযোগ করে দেয়। না দিলেই মাছ ধরার বিভিন্ন জাল জব্দ করে,পরে টাকা দিলেই ছেড়ে দেয়। তার দাপটে হাওর পাড়ের বাসিন্দারা ভয়ে থাকে। কিছু বললেই ইউএনও সাব ও পুলিয়ের ভয় দেখাত। ধরিয়ে দিয়ে মামলা দিবে।

 

 

 

মামলার বাদী খামারী কাজল মিয়া জানান,আমি ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছি অভিযুক্তদের শাস্তি চাই। যাতে এমন কাজ আর কেউ করতে সাহস কেউ না পায়।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম জানিয়েছেন,বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগে টাঙ্গুয়ার হাওরের গইন্যাকুড়ি বিলের পারমিট বাতিল করা হয়েছে। বিষ প্রয়োগের সাথে টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম জড়িত কি না তা পুলিশ যাচাই বাছাই করবে। তদন্তে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পুলিশ।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান,এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।